হাদিস নং- ০১০৩
হাদিস নং- ০১০৪
ইবন আবূ মুলায়কা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রা) কোন কথা শুনে বুঝতে না পারলে বার বার জিজ্ঞাসা করতেন। একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “(কিয়ামতের দিন) যার হিসাব নেওয়া হবে তাকে আযাব দেওয়া হবে।” ‘আয়িশা (রা) বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ্ তা‘আলা কি ইরশাদ করেননি, (তার হিসার-নিকাশ সহজেই নেওয়া হবে) (৮৪:৮)। তখন তিনি বললেনঃ তা কেবল হিসাব পেশ করা। কিন্তু যার হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে নেওয়া হবে সে ধবংস হবে।
হাদিস নং- ০১০৫
মদীনার গভর্নর আমর ইবন সা‘ঈদ যখন আব্দুল্লাহ এবনে যোবরার বিরুধে বললেন, যখন তিনি মক্কায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করছিলেন—‘ হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনাকে এমন একটি হাদীদ শুনাব, যা মক্কা বিজয়ের পরের দিন রাসূলুল্লাহ্ বলেছিলেন। আমার দু’ কান তা শুনেছে, আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে, আর আমার দু’ চোখ তা দেখেছে। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে বললেনঃ মক্কাকে আল্লাহ্ তা‘আলা হারাম করেছেন, কোন মানুষ তাকে হারাম করেনি। তাই যে লোক আল্লাহর উপর এবং আখিরাতের উপর ঈমান রাখে তার জন্য সেখানে রক্তপাত করা এবং সেখানকার কোন গাছপালা কাটা হালাল নয়। কেউ যদি রাসূলুল্লাহর (সেখানকার) লড়াইকে দলীল হিসেবে পেশ করে তবে তোমরা বলে দিও যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তোমাদের অনুমতি দেন নি। আমাকেও সে দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন। তারপর আগের মতো আজ আবার এর নিষেধাজ্ঞা ফিরে এসেছে। উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে (এ বাণী) পৌঁছে দেয়।” তারপর আবূ শুরায়হ (রা)- কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘আপনার এ হাদীদ শুনে ‘আমর কি বলল?’ (আবূ শুরায়হ (রা) উত্তর দিলেন) সে বললঃ ‘হে আবূ শুরায়হ্! (এ বিষয়ে) আমি তোমার চাইতে ভাল জানি। মক্কা কোন বিদ্রোহীকে, কোন খুনের পলাতক আসামীকে এবং কোন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেয় না।’
হাদিস নং- ০১০৬
আবূ বাকরা (রা) -রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের জান, তোমাদের মাল – বর্ণনাকারী মুহাম্মদ (র) বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেনঃ এবং তোমাদের মানসম্মান (অন্য মুসলমানের জন্য) এ শহরে এ দিনের মতই মর্যাদা সম্পন্ন। শোন, (আমার এ বাণী যেন) তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। বর্ণনাকারী মুহাম্মদ (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ সত্য বলেছেন, তা-ই (তাবলীগ) হয়েছে। তারপর রাসূলুল্লাহ দু’বার করে বলেন, হে লোক সকল! ‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’
হাদিস নং- ০১০৭
আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
হাদিস নং- ০১০৮
আবদুল্লাহ ইবনু’য-যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতা যুবায়রকে বললামঃ আমি তো আপনাকে অমুক অমুকের ন্যায় রাসূলুল্লাহ্ (সা) –এর হাদীস বর্ননা করতে শুনি না। তিনি বললেনঃ ‘জেনে রাখ, আমি তাঁর থেকে দূরে থাকিনি, কিন্তু (হাদীস বর্ণনা করি না এজন্য যে,) আমি বলতে শুনেছি, যে আমার উপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’
হাদিস নং- ০১০৯
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এ কথাটি তোমাদেরকে বহু হাদীস বর্ণনা করতে আমাকে বাধা দেয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা)বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
হাদিস নং- ০১১০
সালমা ইবনে আকওয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) – কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।’
হাদিস নং- ০১১১
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ ‘আমার নামে তোমরা নাম রেখ; কিন্তু আমার উপনামে (কুনিয়াতে) তোমরা উপনামে রেখ না। আর যে আমাকে স্বপ্নে দেখে সে ঠিক আমাকেই দেখে। কারণ শয়তান আমার আকৃতির ন্যায় রুপ ধারণ করতে পারে না। যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।