হাদিস নং- ০১৭০
আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে দেখলাম, তখন আসরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছিল। আর লোকজন অযূর পানি তালশ করতে লাগল কিন্তু পেলনা। তারপর রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে কিছু পানি আনা হল। রাসূলুল্লাহ (সা) সে পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকজনকে সে পাত্র থেকে উযূ করতে বললেন। আনাস (রা) বলেন, সে সময় আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলের নীচ থেকে পানি উথলে উঠছে। এমনকি তাঁদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত তা দেয়ে উযূ করল।
হাদিস নং- ০১৭১
ইবন সীরীন (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আবীদা (র) কে বললাম, আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সা) এর কেশ রয়েছে যা আমরা আনাস (রা) এর কাছ থেকে কিংবা আনাস (রা) এর পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি বললেন, তাঁর একটি কেশ আমার কাছে থাকাটা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা পাওয়ার চাইতে বেশী পছন্দনীয়।
হাদিস নং- ০১৭২
আনাস (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর মাথা মুড়িয়ে ফেললে আবূ তালহা (রা) –ই প্রথম তাঁর কেশ সংগ্রহ করে।
হাদিস নং- ০১৭৩
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে তবে তা সাতবার ধুইবে।
হাদিস নং- ০১৭৪
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, (পূর্ব যুগে) এক ব্যক্তি একটি কুকুরকে পিপাসার তাড়নায় ভিজা মাটি চাটতে দেখতে পাল। তখন সে ব্যক্তি তাঁর মোজা নিল এবং কুকুরটির জন্য কুয়া থেকে পানি এনে দিতে লাগল। এভাবে সে ওর তৃষ্ণা মিটাল। আল্লাহ এর বিনিময় দিলেন এবং তাকে জান্নাতে দাখিল করলেন।
হাদিস নং- ০১৭৫
আদী ইবন হাতিম (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর সম্পর্কে) রাসূলুল্লাহ (সা) কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তুমি যখন তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর শিকার করতে ছেড়ে দাও, তখন সে হত্যা করলে তা তুমি খেতে পার। আর সে তার কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তুমি তা খাবে না। কারণ সে তা নিজের জন্যই ধরেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কখনো কখনো আমি আমার কুকুর (শিকারে) পাঠিয়ে দেই, এরপর তার সাথে অন্য এক কুকুরও দেখতে পাই (এমতাবস্থায় শিকারকৃত প্রানীর কি হুকুম)? তিনি বললেন, তাহলে খেও না। কারন তুমি বিসমিল্লাহ বলেছ কেবল তোমার কুকুরের বেলায়, অন্য কুকুরের বলায় বিসমিল্লাহ বলনি।
হাদিস নং- ০১৭৬
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, বান্দা যে সময়টা মসজিদে থেকে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, তার সে পুরো সময়টাই সালাতের মধ্যে গণ্য হয় যতক্ষণ না সে হাদাস করে। এক অনারব ব্যক্তি বলল, ‘হাদাস কি, আবূ হুরায়রা’? তিনি বললেন, ‘শব্দ করে বায়ূ বের হওয়া।’
হাদিস নং- ০১৭৭
আব্বাদ ইবন তামীম (র), তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ (কোন মুসল্লি) সালাত থেকে ফিরবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনে বা গন্ধ পায়।
হাদিস নং- ০১৭৮
আলী (রা) বলেছেন, আমার বেশী বেশী মযী বের হতো। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সা) এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, এতে শুধু উযূ করতে হয়। হাদিসটি শু‘বা (র) আ‘মাশ (র) থেকে বর্ণিত।
হাদিস নং- ০১৭৯
যায়দ ইবনে খালিদ (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তিনি ‘উসমান ইবন ‘আফফান (রা) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সে উযূ করে নেবে যেমন উযূ করে থাকে সালাতের জন্য এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান (রা) বলেন, আমি একথা রাসূলুল্লাহ (সা) থেকে শুনেছি। (যায়দ বলেন) তারপর আমি এ সম্পর্কে ‘আলী (রা), যুবায়র (রা), তালহা (রা) ও উবাই ইবন কা‘ব (রা)- কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা আমাকে এ নির্দেশই দিয়েছেন।
হাদিস নং- ০১৮০
আবূ সা‘য়ীদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) এক আনসারীর কাছে লোক পাঠালেন। তিনি চলে এলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে পানির ফোঁটা পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ ‘সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াতাড়ি করতে বাধ্য করেছি।’ তিনি বললেন, ‘জী।’ রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, যখন ত্বরার কারণে মনী বের না হয় (অথবা বললেন), মনীর অভাবজনিত কারণে তা বের না হয় তবে তোমার উপর কেবল উযূ করা জরুরী। ওয়াহব (র) শু‘বা (র) সূত্রে এ রকমই বর্ণনা করেন। তিনি [শুবা (র)] বলেন, আবূ আবদুল্লাহ (র) বলেছেন, গুনদর (র) ও ইয়াহইয়া (র) শু‘বা (র)- এর সূত্রে বর্ণনায় উযূর কথা উল্লেখ করেন নি।
হাদিস নং- ০১৮১
উসামা ইবনে যায়দ (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন আরাফাত থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে গিয়ে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এলেন। উসামা (রা) বলেন, পরে আমি তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম আর তিনি উযূ করছিলেন। এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেন, ‘সালাতের স্থান তোমার সামনে।’
হাদিস নং- ০১৮২
মুগীরা ইবনে শুবা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তিনি এক সফরে রাসূলুল্লাহ (সা) এর সঙ্গে ছিলেন। এক সময় তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলেন। (প্রয়োজন সেরে আসার পর) মুগীরা তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং তিনি উযূ করছিলেন। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং দু হাত ধুলেন এবং তাঁর মাথা মসেহ করলেন ও উভয় মোজার উপর মসেহ করলেন।