হাদিস নং- ০০৬৭
আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কথা উল্লেখ করে বলেন, (মিনায়) তিনি তাঁর উটের ওপর বসেছিলেন। একজন লোক তাঁর উটের লাগাম ধরে রেখেছিল। তিনি বললেনঃ ‘আজ কোন্ দিন?’ আমরা চুপ থাকলাম এবং ধারণা করলাম যে, এ দিনটির আলাদা কোন নাম তিনি দিবেন। তিনি বললেনঃ “এটা কুরবানীর দিন নয় কি?” ‘জী হাঁ।’ তিনি বললেনঃ ‘এটা কোন্ মাস?’ আমরা চুপ থাকলাম এবং ধারণা করতে লাগলাম যে, তিনি হয়ত এর (প্রচলিত) নাম ছাড়া অন্য কোন নাম দিবেন। তিনি বললেনঃ ‘এটা যিলহজ্জ নয় কি?’ আমরা বললাম, ‘জী হাঁ।’ তিনি বললেনঃ (জেনে রাখ! ‘তোমাদের জান, তোমাদের মাল, তোমাদের সন্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের এ মাস, তোমাদের এ শহর, আজকের এ দিন সন্মানিত। এখানে উপস্থিত ব্যক্তি (আমার এ বাণী) যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। কারন উপস্থিত ব্যক্তি হয়ত এমন এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে, যে এ বাণীকে তার থেকে বেশি মুখস্থ রাখতে পারবে।’
হাদিস নং- ০০৬৮
এবনে মাস’উদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে নির্দিষ্ট দিনে ওয়ায-নসীহত করতেন, আমরা যাতে বিরক্ত না হই। হাদিস নং- ০০৬৯ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ তোমরা (দীনের ব্যাপারে) সহজ পন্থা অবলম্বন করবে, কঠিন পন্থা অবলম্বন করবে না, মানুষকে সুসংবাদ শোনাবে, বিরক্তি সৃষ্টি করবে না।
হাদিস নং- ০০৭০
আবূ ওয়াইল (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এবনে মাস’উদ (রা) প্রতি বৃহস্পতিবার লোকদের ওয়ায-নসীহত করতেন। তাঁকে একজন বলল, ‘হে আবূ ‘আবদুর রহমান! আমার মন চায় যেন আপনি প্রতিদিন আমাদের নসীহত করেন। তিনি বললেনঃ এ কাজ থেকে আমাকে যা বিরত রাখে তা হল, আমি তোমাদের ক্লান্ত করতে পছন্দ করি না। আর আমি নসীহত করার ব্যাপারে তোমাদের (অবস্থার) প্রতি লক্ষ্য রাখি, যেমন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন আমাদের ক্লান্তির আশংকায়।
হাদিস নং- ০০৭১
হুমায়দ এবনে ‘আবদুর রহমান (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মু’আবিয়া (রা) –কে বক্তৃতারত অবস্থায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন। আমি তো কেবল বিতরণকারী, আল্লাহ্ই দানকারী। সর্বদাই এ উম্মাত কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ্ হুকুমের উপর প্রতিষ্টিত থাকবে, বিরুদ্ধবাদীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।
হাদিস নং- ০০৭২
মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সফরে মদীনা পর্যন্ত এবনে উমর (রা) এর সঙ্গে ছিলাম। এ সময় তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে একটি মাত্র হাদীস রেওয়ায়েত করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে ছিলাম। তখন তাঁর নিকট খেজুর গাছের মথি আনা হল। তারপর তিনি বললেনঃ গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার দৃষ্টান্ত মুসলিমের ন্যায়। তখন আমি বলতে চাইলাম যে, তা হল খেজুর গাছ, কিন্তু আমি ছিলাম উপস্থিত সবার চাইতে বয়সে ছোট। তাই চুপ করে রইলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘গাছটি হলো খেজুর গাছ।’
হাদিস নং- ০০৭৩
আবদুল্লাহ্ এবনে মাস’উদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ কেবলমাত্র দু’টি ব্যাপারই ঈর্ষা করা যায়; (১) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা সম্পদ দিয়েছেন, এরপর তাকে হক পথে অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা দেন; (২) সে ব্যক্তির উপর, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা হিকমত দান করেছেন, এরপর সে তার সাহায্যে ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।
হাদিস নং- ০০৭৪
এবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি এবং হুর এবনে কায়স এবনে হিসন আল ফাযারী মূসা (আ) এর সঙ্গী সম্পর্কে বাদানুবাদ করেছিলেন। এবনে আব্বাস (রা) বললেন, তিনি ছিলেন খিযর। ঘটনাক্রমে তখন তাদের পাশ দিয়ে উবাঈ এবনে কা’ব (রা) যাচ্ছিলেন। এবনে ‘আব্বাস (রা) তাঁকে ডেকে বললেনঃ আমি ও আমার এ ভাই মতবিরোধ পোষণ করছি মূসা (আ) এর সেই সঙ্গীর ব্যাপারে যাঁর সাথে সাক্ষাত করার জন্য মূসা (আ) আল্লাহ্র কাছে পথের সন্ধান চেয়েছিলেন—আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে বলতে শুনেছি, একবার মূসা (আ) বনী ইসরাঈলের কোন এক মজলিসে হাজির ছিলেন। তখন তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আপনি কাউকে আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী বলে জানেন কি?’ মূসা (আ) বললেন, ‘না।’ তখন আল্লাহ্ তা’আলা মূসা (আ) এর কাছে ওহী পাঠালেনঃ হ্যাঁ, আমার বান্দা খিযর।’ অতঃপর মূসা (আ) তাঁর সাথে সাক্ষাত করার রাস্তা জানতে চাইলেন। আল্লাহ্ তা’আলা মাছকে তার জ্ন্য নিশানা বানিয়ে দিলেন এবং তাঁকে বলা হল, তুমি যখন মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরে আসবে। কারন, কিছুক্ষনের মধ্যেই তুমি তাঁর সাক্ষাত পাবে। তখন তিনি সমুদ্রে সে মাছের অনুসরন করতে লাগলেন। মূসা (আ) কে তাঁর সঙ্গী যুবক বললেন, (কুরআণ মজীদের ভাষায়ঃ) “আপনি কি লক্ষ্য করেছেন আমরা যখন পাথরের কাছে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম ? শয়তান তার কথা আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। ........মূসা বললেন, আমরা তো সে স্থানটিরই অনুসন্ধান করছিলাম। এরপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চলল। (১৮:৬৩-৬৪) তাঁরা খিযরকে পেলেন। তাদের ঘটনা তা-ই, যা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন।"
হাদিস নং- ০০৭৫
এবনে ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেনঃ ‘হে আল্লাহ্! আপনি তাকে কিতাব (কুরআন) শিক্ষা দিন।’
হাদিস নং- ০০৭৬
আবদুল্লাহ্ এবনে ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি বালক হবার নিকটবর্তী বয়সে একবার একটি মাদী গাধার উপর সওয়ার হয়ে এলাম। আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন কোন দেওয়াল সামনে না রেখেই মিনায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন আমি কোন এক কাতারের সামনে দিয়ে গেলাম এবং মাদী গাধাটিকে চরে ঘাওয়ার জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি কাতারে ভেতর ঢুকে পড়লাম কিন্তু এতে কেউ আমাকে নিষেধ করলেন না।
হাদিস নং- ০০৭৭
মাহমূদ ইবনুর-রাবী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মনে আছে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার বালতি থেকে পানি নিয়ে আমার মুখমন্ডলে কুলি করে দিয়েছিলেন, তখন আমি ছিলাম পাঁচ বছরের বালক।