হাদিস নং- ০২২৭

আসমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এসে বললেনঃ (ইয়া রাসূলুল্লাহ্!) বলুন, আমাদের কারো কাপড়ে হায়েযের রক্ত লেগে গেলে সে কি করবে? তিনি বললেনঃ সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে রগড়াবে এবং ভাল করে ধুয়ে ফেলবে। এরপর সেই কাপড়ে সালাত আদায় করবে।

হাদিস নং- ০২২৮

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার এত বেশি রক্তস্রাব হয় যে, আর পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে দেব? রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ না, এ তো ধমনি নির্গত রক্ত, হায়েয় নয়। তাই যখন তোমার হায়েয আসবে তখন সালাত ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে, তারপর সালাত আদায় করবে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা বলেছেনঃ তারপর এভাবে আরেক হায়েয না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের জন্য উযূ করবে।"

হাদিস নং- ০২২৯

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)এর কাপড় থেকে জানাবাতের চিহ্ন ধুয়ে দিতাম এবং কাপড়ে ভিজা চিহ্ন নিয়ে তিনি সালাতে বের হতেন।

হাদিস নং- ০২৩০

সুলায়মান ইব্ন ইয়াসর (র) থেবে বর্ণিত, ‘আমি ‘আয়িশা (রা)-কে কাপড়ে লাগা বীর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।’ তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম। তিনি কাপড় ধোয়ার ভিজা দাগ নিয়ে সালাতে বের হতেন।

হাদিস নং- ০২৩১

আমর ইব্ন মায়মুনা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কাপড়ে জানাবাতের নাপাকী লাগা সম্পর্কে আমি সুলায়মান ইব্ন ইয়াসার (র)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ ‘আয়িশা (রা) বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম। এরপর তিনি সালাতে বেরিয়ে যেতেন আর তাতে পানি দিয়ে ধোয়ার চিহ্ন থাকত।

হাদিস নং- ০২৩২

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাপড় থেকে বীর্য ধুয়ে ফেলতেন। আয়িশা (রা) বলেনঃ তারপর আমি তাতে পানির একটি বা কয়েকটি দাগ দেখতে পেতাম।

হাদিস নং- ০২৩৩

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উকল বা উরায়না গোত্রের কিছু লোক (ইসলাম গ্রহণের জন্য) মদীনায় এলে তারা পীড়িত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের (সদকার) উটের কাছে যাবার এবং ওর পেশাব ও দুধ পান করার নির্দেশ দিলেন। তারা সেখানে চলে গেল। তারপর তারা সুস্থ হয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর রাখালকে হত্যা করে ফেলল এবং উটগুলি হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ খবর দিনের প্রথম ভাগেই এসে পৌঁছল। তিনি তাদের পেছনে লোক পাঠালেন। বেলা বেড়ে উঠলে তাদেরকে (গ্রেফতার করে) আনা হল। তারপর তাঁর আদেশে তাদের হাত পা কেটে দেওয়া হল। উত্তপ্ত শলাকা দিয়ে তাদের চোখ ফুঁড়ে দেওয়া হল এবং গরম পাথুরে ভূমিতে তাদের নিক্ষেপ করা হল। তারা পানি চাইছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি। আবূ কিলাবা (র) বলেন, এরা চুরি করেছিল, হত্যা করেছিল, ঈমান আনার পর কুফরী করেছিল এবং আল্লাহ্ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।

হাদিস নং- ০২৩৪

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সা) মসজিদ নির্মিত হবার পূর্বে বকরীর খোয়াড়ে সালাত আদায় করতেন।

হাদিস নং- ০২৩৫

মায়মূনা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে ‘ঘি’র মধ্যে ইঁদুর পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ ইঁদুরটি এবং তার আশ পাশ থেকে ফেলে দাও এবং তোমাদের ঘি ব্যবহার কর।

হাদিস নং- ০২৩৬

আলী ইবনে ‘আবদুল্লাহ্ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সা)রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে ‘ঘি’র মধ্যে ইঁদুর পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ ইঁদুরটি এবং তার আশপাশ থেকে ফেলে দাও। মা’ন (র) বলেন, মালিক (র) আমার কাছে বহুবার এবাবে বর্ণনা করেছেনঃ ইব্ন ‘আব্বাস (রা) থেকে এবং ইব্ন ‘আব্বাস (রা) মায়মূনা (রা) থেকেও।

হাদিস নং- ০২৩৭

আবূ হুরায়রা (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌র রাস্তায় মুসলমানদের যে যখম হয়, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি যখম আঘাতকালীন সময়ে যে অবস্থায় ছিল তদ্রুপ হবে। রক্ত ছুটে বের হতে থাকবে। তার রং হবে রক্তের রং কিন্তু গন্ধ হবে মিশকের ন্যায়।

হাদিস নং- ০২৩৮

আবূ হারায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে বলতে শুনেছেন যে, আমরা শেষে আগমনকারী এবং (কিয়ামত দিবসে) অগ্রগামী। এ সনদেই তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন স্থির- যা প্রবাহিত নয় এমন পানিতে কখনো পেশাব না করে। (সম্ভবত) পরে সে আবার তাতে গোসল করবে।

হাদিস নং- ০২৩৯

আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাস’উদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) সিজদারত অবস্থায় ছিলেন।

অন্য সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইবনে মাস্’উদ (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার বায়তুল্লাহ্‌র পাশে সালাত আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহল ও আর সঙ্গীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল, ‘তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়ীভুঁড়ি এনে মুহাম্মদ যখন সিজদা করেন তখন তার পিঠের উপর রাকতে পারে?’ তখন কওমের বড় পাষন্ড (‘উকবা) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি নজর রাখল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন সিজদায় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইব্ন মাস’উদ (রা) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখেছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি কিছু প্রতিরোধ শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটিয়ে পড়তে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন সিজদায় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে হযরত ফাতিমা (রা) এলেন এবং সেটি তাঁর পিঠের উপর থেকে ফেলে দিলেন।

তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মাথা উঠিয়ে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু’আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জনত যে, এ শহরে দু’আ কবূল হয়। এরপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ ইয়া আল্লহ্! আবূ জাহলকে ধ্বংস করুন। এবং ‘উতবা ইব্ন রাবী’আ, শায়বা ইব্ন রবী’আ, ওয়ালীদ ইব্ন ‘উতবা, উময়্যা ইব্ন খালাফ ও ‘উকবা ইব্ন মু’আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেন নি।

ইবনে মাস’উদ (রা) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার জান, রাসূলুল্লাহ্ (সা) যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বদরের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।

Make a Free Website with Yola.