হাদিস নং- ০১৯৩

ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা)এর যামানায় পুরুষ এবং মহিলা একত্রে উযূ করতেন।

হাদিস নং- ০১৯৪

জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার পীড়িত অবস্থায় একবার রাসূলুল্লাহ (সা) আমার খোঁজ-খবর নিতে এলেন। আমি তখন এতই অসুস্থ ছিলাম যে আমার জ্ঞান ছিল না। তারপর তিনি উযূ করলেন এবং তাঁর উযূর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন। তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার) ‘মীরাস’ কে পাবে? আমার একমাত্র ওয়ারিস হল কালালা (অর্থ পিতামাতা ও সন্তান-সন্ততি ছাড়া অন্যেরা)। তখন ফারায়েযের আয়াত নাযিল হল।

হাদিস নং- ০১৯৫

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সালাতের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাড়ী নিকটে ছিল তাঁরা (উযূ করার জন্য) বাড়ী চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযূর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) –এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযূ করলেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনারা কতজন ছিলেন?’ তিনি বললেন, ‘আশিজন বা আরো বেশী।’

হাদিস নং- ০১৯৬

আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সা)একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তাতে তাঁর উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং কুলি করলেন।

হাদিস নং- ০১৯৭

আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদের বাড়ীতে এলেন। আমরা তাঁকে পিতলের একটি পাত্রে পানি দিলাম। তিনি তা দিয়ে উযূ করলেন। তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ও উভয় হাত দু’ দু’বার করে ধুইলেন এবং তাঁর হাত সামনে ও পেছনে এনে মাথা মসেহ করলেন আর উভয় পা ধুইলেন।

হাদিস নং- ০১৯৮

আয়িশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) –এর রোগ যন্ত্রণা বেড়ে গেলে তিনি আমার ঘরে শুশ্রূষার জন্য তাঁর পত্নীগনের অনুমতি চাইলেন। তাঁরা অনুমতি দিলে নবী (আমার ঘরে আসার জন্য) দু’ব্যক্তির ওপর ভর করে বের হলেন। আর তাঁর পা দু’খানি তখন মাটিতে চিহ্ন রেখে যাচ্ছিল। তিনি ‘আব্বাস (রা) ও অন্য এক ব্যক্তির মাঝখানে ছিলেন। ‘উবায়দুল্লাহ (র) বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস (রা)- কে এ কথা অবহিত করলাম। তিনি বললেন, সে অন্য ব্যক্তিটি কে তা কি তুমি জান? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হলেন ‘আলী ইবন আবূ তালিব (রা)।

আয়িশা (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর ঘরে আসার পর রোগ আরো বেড়ে গেলে তিনি বললেন, ‘তোমরা আমার উপর মুখের বাঁধন খোলা হয়নি এমন সাতটি মশকের পানি ঢেলে দাও, তাহলে হয়ত আমি মানুষকে কিছু ওয়াসিয়্যাত করব।’ তাঁকে তাঁর সহধর্মিণী হাফসা (রা) এর একটি বড় পাত্রের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হল। তারপর আমরা তাঁর ওপর সেই সাত মশক পানি ঢালতে শুরু করলাম। এভাবে ঢালার পর এক সময় তিনি আমাদের প্রতি ইশারা করলেন, (এখন থাম) তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। এরপর তিনি বের হয়ে জনসমক্ষে গেলেন।

হাদিস নং- ০১৯৯

ইয়াহইয়া (র) বলেন, আমার চাচা উযূর পানি বেশী খরচ করতেন। একদিন তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা)- কে বললেন, ‘আপনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে কিভাবে উযূ করতে দেখেছেন’? তিনি এক গামলা পানি আনালেন। সেটি উভয় হাতের ওপর কাত করে (তা থেকে পানি ঢেলে) হাত দু’খানি তিনবার ধুইলেন, তারপর তাঁর হাত গামলায় ঢুকালেন। তারপর এক আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার কুলি করলেন এবং নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর পানিতে তাঁর হাত ঢুকালেন। উভয় হাতে এক আঁজলা পানি নিয়ে মুখমণ্ডল তিনবার ধুইলেন। তারপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুইলেন। তারপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার সামনে এবং পেছনে মসেহ করলেন এবং দু’পা ধুইলেন। তারপর বললেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে এভাবেই উযূ করতে দেখেছি।’

হাদিস নং- ০২০০

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) একপাত্র পানি চাইলেন। একটি বড় পাত্র তাঁর কাছে আনা হল, তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস (রা) বলেন, আমি পানির দিকে তাকাতে লাগলাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উথলে উঠতে লাগল। আনাস (রা) বলেন, যারা উযূ করেছিল, আমি অনুমান করলাম তাদের সংখ্যা ছিল ৭০ থেকে ৮০ জন।

Make a Free Website with Yola.