হাদিস নং - ০০০০৭
‘উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন মূসা (রা) ........... ইব্ন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। ১। আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য দান। ২। সালাত কায়েম করা। ৩। যাকাত দেওয়া। ৪। হজ্জ করা এবং ৫। রমদান এর সিয়াম পালন করা।
হাদিস নং - ০০০০৮
আবদুল্লাহ্ ইব্ন জু’ফী (র) ........ আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।
হাদিস নং - ০০০০৯
আদম ইব্ন ইয়াস (র) ........ আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাবে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, যে আল্লাহ্ তা’আলার নিষিদ্ধ কাজ ত্যাগ করে। আবূ আবদুল্লাহ (র) বলেন, আবূ মু’আবিয়া (র) বলেছেন, আমার কাছে দাউদ ইব্ন আবূ হিন্দ (র) ‘আমির (র) সূত্রে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি বলেছেন যে, আমি আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রা) কে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি এবং আবদুল আ’লা (র) দাউদ (র) থেকে, দাউদ (র) আমির (র) থেকে, আমির (র) আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং - ০০০১০
সা’ঈদ ইব্ন ইয়াহ্ইয়া ইব্ন সা’ঈদ আল উমাবী আল কুরাশী (র) ........... আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! ইসলামে কোন্ কাজটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।
হাদিস নং - ০০০১১
অমর ইব্ন খালিদ (র) ......... আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাবার খাওয়াবে ও পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম করবে।
হাদিস নং - ০০০১২
মুসাদ্দাদ (র) ও হুসাইন আল মুৎআল্লিম (র) ......... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।
হাদিস নং - ০০০১৩
আবুল ইয়ামান (র) ......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।
হাদিস নং - ০০০১৪
ইয়া’কুব ইব্ন ইবরাহীম ও আদম (র) ......... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষন না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।
হাদিস নং - ০০০১৫
মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (র)......... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়। ১। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে খালিস আল্লাহ্র জন্যই মুহব্বত করা; ৩। কুফ্রীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।
হাদিস নং - ০০০১৬
আবুল ওয়ালীদ (র) ......... আনাস ইব্ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ ঈমানের চিহ্ন হ’ল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফিকীর চিহ্ন হল আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।
হাদিস নং - ০০০১৭
আবুল ইয়ামান (র) ......... ‘আয়িনুল্লাহ্ ইব্ন আবদুল্লাহ্ (র) বলেন, বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও লায়লাতুল ‘আকাবার একজন নকীব ‘উবাদা ইব্নুস সামিত (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর পার্শ্বে একজন সাহাবীর উপস্থিতিতে তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমরা আমার কাছে এই মর্মে বায়’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহ্র সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না, তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেবে না এবং নেক কাজে নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যে তা পূরণ করবে, তার বিনিময় আল্লহ্র কাছে। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং দুনিয়াতে তার শাস্তি পেয়ে গেলে, তবে তা হবে তার জন্য কাফ্ফারা। আর কেউ এর কোন একটিতে লিপ্ত হয়ে পড়লে এবং আল্লাহ্ তা অপ্রকাশিত রাখলে, তবে তা আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। তিনি যদি চান, তাকে মাফ করে দেবেন আর যদি চান, তাকে শাস্তি দেবেন। আমরা এর উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম।
হাদিস নং - ০০০১৮
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসলামা (র) ......... আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চুড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে সে তার দীন নিয়ে পালিয়ে যাবে।
হদিস নং - ০০০১৯
মুহাম্মদ ইব্ন সালাম (র) ......... ‘আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) সাহাবীদের যখন কোন আমলের নির্দেশ দিতেন তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মা’ফ করে দিয়েছেন।’ একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি বললেনঃ তোমাদের চাইতে আল্লাহ্কে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।
হদিস নং - ০০০২০
সুলায়মান ইব্ন হারব (র) .......... আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়—(১) যার কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে প্রিয়; (২) যে একমাত্র আল্লাহ্রই জন্য কোন বান্দাকে মুহব্বত করে এবং (৩) আল্লাহ্ তা’আলা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর যে কুফরে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করে।
হদিস নং - ০০০২১
ইসমা’ঈল (র) ......... আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। পরে আল্লাহ্ তা’আলা (ফিরিশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমানও ঈমান রয়েছে, তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আস। তারপর তাদের দোযখ থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (র) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন] নদীতে ফেলা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর পাশে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাওনা সেগুলো কেমন হলুদ রঙের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (র) বলেন, ‘আমর (র) আমাদের কাছে ---- এর স্থলে ---- এবং ------ এর স্থলে ------ বর্ণনা করেছেন।
হদিস নং - ০০০২২
মুহাম্মদ ইব্ন উবায়দুল্লাহ্ (র) ........... আবূ উমামা ইব্ন সাহল ইব্ন হুনাইফ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি আবূ সাঈদ খুদরী (রা)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্(সা) বলেছেনঃ একবার আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম যে, লোকদেরকে আমার সামনে হাযির করা হচ্ছে। আর তাদের পরণে রয়েছে জামা। কারো জামা বুক পর্যন্ত আর কারো জামা এর নীচ পর্যন্ত। আর উমর ইব্নুল খাত্তাব (রা)-কে আমার সামনে হাযির করা হল এমন অবস্থায় যে, তিনি তাঁর জামা (এত লম্বা যে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি এর কী তা’বীর করেছেন? তিনি বললেনঃ (এ জামা মানে) দীন।
হদিস নং - ০০০২৩
আবদুল্লাহ্ ইব্ন ইউসুফ (র) ......... আবদুল্লাহ্ ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলুল্লাহ্(সা) এক আনসারীর পাশ দেয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে তখন (অধিক) লজ্জা ত্যাগের জন্য নসীহত করছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারন লজ্জা ঈমানের অংগ।
হদিস নং - ০০০২৪
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুহাম্মদ আল-মুসনাদী (র) ............ ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্(সা) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই ও মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্(সা) আল্লাহ্র রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্র ওপর ন্যস্ত।
হদিস নং - ০০০২৫
আহমদ ইব্ন ইউনুস ও মূসা ইব্ন ইসমা’ঈল (র) ....... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্(সা) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন্ আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ‘তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ‘মকবূল হজ্জ।’
হদিস নং - ০০০২৬
আবুল ইয়ামান (র) ......... সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা’দ (রা) সেখানে বসা ছিলেন। সা’দ (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার কাছে তাদের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল। তাই আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহ্র কসম! আমিতো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ (মু’মিন) না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দানের ব্যপারে বিরত রইলেন? আল্লাহ্র কসম! আমিতো তাকে মু’মিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর তার সম্পর্কে যা জানি তা প্রবল হয়ে উঠল। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবারও সেই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা’দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্য লোক আমার কাছে তার চাইতে বেশি প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ্ তা’আলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে ফেলে দেবেন।
এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা’মার এবং যুহরী (র)-এর ভাতিজা যুহরী (র) থেকে বর্ণনা করেছেন।
হদিস নং - ০০০২৭
কুতায়বা (র) ......... আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রা) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইসলামের কোন্ কাজ সবচাইতে উত্তম?’ তিনি বললেনঃ তুমি লোকদের আহার করাবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম করবে।
হদিস নং - ০০০২৮
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসলামা (র) ........... ইব্ন ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই স্ত্রীলোক; (কারন) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারা কি আল্লাহ্র সঙ্গে কুফরী করে?’ তিনি বললেনঃ ‘তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং ইহসান অস্বীকার করে।’ তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, এরপর সে তোমার সামান্য অবহেলা দেখলেই বলে, ‘আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।’
হদিস নং - ০০০২৯
সুলায়মান ইব্ন হারব (র) ........ মা’রূর (র) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রা) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চদর) আর তাঁর চাকরের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর (সমতার) কারন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে বললেনঃ ‘আবু যর! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো জাহিলী যুগের স্বভাব রয়েছে। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ্ তা’আলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে।
হদিস নং - ০০০৩০
‘আবদুর রহমান ইব্নুল মুবারক (র) .......... আহনাফ ইব্ন কায়স (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে [আলী (রা)-কে] সাহায্য করতে যাচ্ছিলাম। আবূ বাক্রা (রা)-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলে তিনি বললেনঃ ‘তুমি কোথায় যাচ্ছে?’ আমি বললাম, ‘আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি।’ তিনি বললেনঃ ‘ফিরে যাও। কারন আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছি যে, দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কি অপরাধ? তিনি বললেন, (নিশ্চয়ই) সে তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।’
হদিস নং - ০০০৩১
সুলায়মান ইব্ন হারব (র) ........ মা’রূর (র) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবূ যর (রা) এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন তাঁর পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চদর) আর তাঁর চাকরের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাঁকে এর (সমতার) কারন জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাকে বললেনঃ ‘আবু যর! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে এখনো জাহিলী যুগের স্বাভাব রয়েছে। জেনে রেখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ্ তা’আলা তাদের তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায় তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের উপর এমন কাজ চাপিয়ে দিও না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে।
হদিস নং - ০০০৩২
সুলায়মান আবুর রাবী’ (র) .......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে; এবং ৩. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।
হদিস নং - ০০০৩৩
কাবীসা ইব্ন ‘উকবা (র) ......... আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়। শু’বা আ’মাশ (র) থেকে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান (র) এর অনুসরণ করেছেন।
হদিস নং - ০০০৩৪
আবুল ইয়ামান (র) .......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদর-এ ইবদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হবে।
হদিস নং - ০০০৩৫
হারমীয়া ইব্ন হাফ্স (র) ........ আবূ যুর’আ ইব্ন ‘আমর ইব্ন জারীর (র) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্র রাস্তায় বের হয়, যদি সে শুধু আল্লাহ্র উপর ঈমান এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারনে বের হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষণা দেন যে, আমি তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনব তার সওয়াব বা গনীমত (ও সওয়াব) সহ কিংবা তাকে জান্নাতে দাখিল করব।
আর আমার উম্মতের উপর কষ্টদায়ক হবে বলে যদি মনে না করতাম তবে কোন সেনাদলের সাথে না গিয়ে বসে থাকতাম না। আমি অবশ্যই এটা পছন্দ করি যে, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই, আবার জীবিত হই, আবার শহীদ হই।
হদিস নং - ০০০৩৬
ইসমা’ঈল (র) ……. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রমযানের রাতে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ্ মাফ করে দেওয়া হয়।
হদিস নং - ০০০৩৭
ইব্ন সালাম (র) .......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
হদিস নং - ০০০৩৮
আবদুস সালাম ইব্ন মুতাহ্হার (র) .......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দীন তার উপর বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।
হদিস নং - ০০০৩৯
‘আমর ইব্ন খালিদ (র) .......... বারা (ইব্ন ‘আযিব) (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাঁর নানাদের গোত্র [আবূ ইসহাক (র) বলেন] বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দসের দিকে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাঁর পছন্দ ছিল যে, তাঁর কিবলা বায়তুল্লাহ্র দিকে হোক। আর তিনি (বায়তুল্লাহ্র দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন, তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সঙ্গে একদল লোক উক্ত সালাত আদায় করেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা তখন রুকু’র অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ “আমি আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বায়তুল্লাহ্র দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করতেন তখন ইয়াহূদীদের ও আহলি কিতাবদের কাছে এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বায়তুল্লাহ্র দিকে (সালাতের জন্য) তাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এর প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হল। যুহায়র (র) বলেন, আবূ ইসহাক (র) বারা (রা) থেকে আমার কাছে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক ইন্তিকাল করেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কি বলব, বুঝতে পারছিলাম না, তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ
“আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের সালাতকে (যা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে আদায় করা হয়েছিল) বিনষ্ট করবেন না।”
হদিস নং - ০০০৪০
মালিক (র) .......... আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছেন, বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম উত্তম হয়, আল্লাহ্ তা’আলা তার আগের সব গুনাহ্ মাফ করে দেন। এরপর শুরু হয় প্রতিদান; একটি সৎ কাজের বিনিময়ে দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত; আর একটি মন্দ কাজের বিনিময়ে ঠিক ততটুকু মন্দ প্রতিফল। অবশ্য আল্লাহ্ যদি মাফ করে দেন তবে ভিন্ন কথা।
হদিস নং - ০০০৪১
ইসহাক ইব্ন মানসূর (র) ........... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর কায়েম থাকে তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (সওয়াব) লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই মন্দ লেখা হয়।
হদিস নং - ০০০৪২
মুহাম্মদ ইব্নুল মুসান্না (র) ......... ‘আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার তাঁর কাছে আসেন, তাঁর নিকট এক মহিলা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ‘ইনি কে? আয়িশা (রা) উত্তর দিলেন অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাঁর সালাতের উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিৎ। আল্লাহ্র কসম! আল্লাহ্ তা’আলা ততক্ষন পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষন না তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হয়ে পর। আল্লাহ্র কাছে সবচাইতে পছন্দনীয় আমল তা-ই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে।
হদিস নং - ০০০৪৩
মুসলিম ইব্ন ইবরাহীম (র) .......... আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন যে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাহ্ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমানও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ্ মুখারী (র) বলেন, আবান (রা) ....... কাতাদা (র) ....... আনাস (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে নেকী --- এর স্থলে ‘ঈমান’ শব্দটি রিওয়ায়ত করেছেন।
হদিস নং - ০০০৪৪
হাসান ইবনুস সাব্বাহ্ (র) ......... ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণনা করেন, এক ইয়াহূদী তাঁকে বললঃ হে আমীরুল মু‘মিনীন! আপনাদের কিতাবে একটি আয়াত আছে যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, তা যদি আমাদের ইয়াহূদী জাতির উপর নাযিল হত, তবে অবশ্যই আমরা সে দিনকে ঈদ হিসেবে পালন করতাম। তিনি বললেন, কোন আয়াত? সে বললঃ “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন মনোনীত করলাম।” (৫:৩) ‘উমর (রা) বললেন এটি যে দিন এবং যে স্থানে রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর উপর নাযিল হয়েছিল তা আমরা জানি; তিনি সেদিন ‘আরাফায় দাঁড়িয়েছিলেন এবং তা ছিল জুম‘আর দিন।
হদিস নং - ০০০৪৫
ইসমা’ঈল (র) .......... তালহা ইব্ন উবায়দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাজ্দবাসী এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথার মৃদু আওয়ায শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু সে কি বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে কাছে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।’ সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া আরো সালাত আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল আদায় করতে পার।’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘আর রমযানের সিয়াম।’ সে বলল, ‘আমার উপর এ ছাড়া আরো সওম আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে লফল আদায় করতে পার।’ বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) তার কাছে যাকাতের কথা বললেন। সে বলল, ‘আমার ওপর এ ছাড়া আরো দেয় আছে?’ তিনি বললেনঃ ‘না, তবে নফল হিসেবে দিতে পার।’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেলেন, ‘আল্লাহ্র কসম! আমি এর চেয়ে বেশিও করব না এবং কমও করব না।’ তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘সে সফলকাম হবে যদি সত্য বলে থাকে।’
হদিস নং - ০০০৪৬
আহমদ ইব্ন ‘আবদুল্লাহ্ ইব্ন ‘আলী আল-মানজূফী (র) ......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কোন মুসলমানের জানাযায় অনুগমন করে এবং তার সালাত-ই জানাযা আদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সাথে থাকে, সে দুই কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে। প্রতিটি কীরাত হল উহুদ পর্বতের মতো। আর যে ব্যক্তি শুধু জানাযা আদায় করে, তারপর দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই চলে আসে, সে এক কীরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে।
‘উসমান আল-মুয়ায্যিন (র) ......... আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
হদিস নং - ০০০৪৭
মুহাম্মদ ইব্ন ‘আর ‘আরা (র) ......... যুবায়দ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ ওয়াইল (র)-কে মুরজিআ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ্ (ইব্ন মাস’উদ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।
হদিস নং - ০০০৪৭
কুতায়বা ইব্ন সা’ঈদ (র) ......... ‘উবাদা ইব্ন সামিত (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) লায়লাতুল কদ্র সম্পর্কে খবর দেওয়ার জন্য বের হলেন। তখন দু’জন মুসলমান পরস্পর বিবাদ করছিল। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের লায়লাতুল কদ্র সম্পর্কে খবর দেওয়ার জন্য বেরিয়েছিলাম; কিন্তু তখন অমুক অমুক বিবাদে লিপ্ত থাকায় তা (নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কিত জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর হয়তো বা এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। তোমরা তা অনুসন্ধান কর ২৭, ২৯ ও ২৫ তম রাতে।
হদিস নং - ০০০৪৮
মুসাদ্দাদ (র) ......... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সা) জনসমক্ষে বসা ছিলেন, এমন সময় তাঁর কাছে এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করলেন ‘ঈমান কি?’ তিনি বললেনঃ ‘ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহ্র প্রতি, তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি, (কিয়ামতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরাত্থানের প্রতি।’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইসলাম কি?’ তিনি বললেনঃ ‘ইসলাম হল, আপনি আল্লাহ্র ইবাদত করবেন এবং তাঁর সঙ্গে শরীক করবেন না, সালাত কায়েম করবেন, ফরয যাকাত আদায় করবেন এবং রমযানের সাওম পালন করবেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইহসান কি?’ তিনি বললেনঃ ‘আপনি এমন ভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না পান তবে (বিশ্বাস রাখবেন যে,) তিনি আপনাকে দেখছেন।’ ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কিয়ামত কবে?’ তিনি বললেনঃ ‘এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশি জানেন না। তবে আমি আপনাকে কিয়ামতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছিঃ বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। (কিয়ামতের বিষয়) সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভূক্ত, যা আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না।’ এরপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) এই আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেনঃ
“কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ই নিকট..।” (৩১:৩৪)
এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেনঃ ‘তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন।’ তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন, ‘ইনি জিবরীল (আ)। লোকদের দীন শেখাতে এসেছিলেন।’
হদিস নং - ০০০৪৯
ইবরাহীম ইব্ন হামাযা (র) ......... আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সুফিয়ান ইব্ন হারব আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, হিরাক্ল তাঁকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তারা (ঈমানদারগণ) সংখ্যায় বাড়ছে না কমছে? তুমি উত্তর দিয়েছিলে, তারা সংখ্যায় বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের ব্যাপার এরূপই থাকে যতক্ষণ তা তা পূর্ণতা লাভ করে। আর আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেউ তাঁর দীন গ্রহণ করার পর তা অপছন্দ করে মুরতাদ হয়ে যায় কি-না? তুমি জবাব দিয়েছ, ‘না।’ প্রকৃত ঈমান এরূপই, ঈমানের স্বাদ অন্তরের সাথে মিশে গেলে কেউ তা অপছন্দ করে না।
হদিস নং - ০০০৫০
আবূ নু’আয়ম (র) ......... নু’মান ইব্ন বশীর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে বলতে শুনেছি যে, ‘হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, উদহারন সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ্র সংরক্ষিত চারণভুমির আশে পাশে চরায়, অচিরেই সেগুলো সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহ্রই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহ্র যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল কলব।
হদিস নং - ০০০৫১
আলী ইবনুল জা’দ (র) ......... আবূ জামরা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইব্ন আব্বাস (রা) এর সঙ্গে বসতাম্ তিনি আমাকে তাঁর আসনে বসাতেন। একবার তিনি বললেনঃ তুমি আমার কাছে থেকে যাও, আমি তোমাকে আমার সম্পদ থেকে কিছু অংশ দেব। আমি দু’ মাস তাঁর সঙ্গে অবস্থান করলাম। তারপর একদিন তিনি বললেন, আবদুল কায়েসের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে আসলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা কোন্ কওমের? অথবা কোন্ প্রতিনিধিদলের? তারা বলল, রাবী‘আ গোত্রের।’ তিনি বললেনঃ মারহাবা সে গোত্র বা সে প্রতিনিধি দলের প্রতি, যারা অপদস্থ ও লজ্জিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ইয়া রাসূলুল্লহ্! নিষিদ্ধ মাসসমূহ ছাড়া অন্য কোন সময় আমরা আপনার কাছে আসতে পারি না। (কারন) আমাদের এবং আপনার মাঝখানে মুযার গোত্রীয় কাফিরদের বাস। তাই আমাদের কিছু স্পষ্ট হুকুম দিন, যাতে আমরা যাদের পিছনে রেখে এসেছি তাদের জানিয়ে দিতে পারি এবং যাতে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তারা পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি তাদের চারটি জিনিসের নির্দেশ এবং চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনার আদেশ দিয়ে বললেনঃ ‘এক আল্লাহ্ প্রতি ঈমান আনা কিভাবে হয় তা কি তোমরা জান?’ তাঁরা বলল, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহ্র রাসূল এবং সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, রমযানের সিয়াম পালন করা; আর তোমরা গণীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে। তিনি তাদেরকে চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করলেন। তা হলোঃ সবুজ কলসী, শুকনো লাউয়ের খোল, খেজুর গাছের গুঁড়ি থেকে তৈরীকৃত পাত্র এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র। রাবী বলেন, বর্ণনাকারী (---- এর স্থলে) কখনও ---- উল্লেখ করেছেন (উভয় শব্দের অর্থ একই)। তিনি আরো বলেন, তোমরা এগুলো ভালো করে আয়ত্ত করে নাও এবং অন্যদেরও এগুলি জানিয়ে দিও।
হদিস নং - ০০০৫২
আবদুল্লাহ্ ইব্ন মাসলাম (র) ......... ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত এবং প্রত্যেক মানুষের প্রাপ্য তার নিয়ত অনুযায়ী। অতএব যার হিজরত হবে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হয় দুনিয়া হাসিলের জন্য বা কোন নারীকে বিয়ে করার জন্য, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।
হদিস নং - ০০০৫৩
হাজ্জাজ ইব্ন মিনহাল (র) .......... আবূ মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যখন খরচ করে তখন তা হয় তার সদকা স্বরূপ।
হদিস নং - ০০০৫৪
হাকাম ইব্ন নাফি’ (র) ........ সা’দ ইব্ন আবূ ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেনঃ ‘তুমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের আশায় যা-ই খরচ কর না কেন, তোমাকে তার সওয়াব অবশ্যই দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও।’
হদিস নং - ০০০৫৫
মুসাদ্দাদ (র) ........ জারীর ইব্ন আবদুল্লাহ্ আল বাজলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছি সালাত কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার এবং সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার।
হদিস নং - ০০০৫৬
আবূ নু‘মান (র) ......... যিয়াদ ইব্ন ‘ইলাকা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মুগীরা ইব্ন শু’বা (রা) যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন আমি জারীর ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) এর কাছ থেকে শুনেছি, তিনি (মিম্বরে) দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র হামদ ও সানা বর্ণনা করে বললেন, তোমরা ভয় কর এক আল্লাহ্কে যাঁর কোন শরীক নাই, এবং নতুন কোন আমীর না আসা পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখ, অনতিবিলম্বে তোমাদের আমীর আসবেন। এরপর জারীর (রা) বললেন, তোমাদের আমীরের জন্য মাগফিরাত কামনা কর, কেননা তিনি ক্ষমা করা ভালবাসতেন। তারপর বললেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এসে বললাম, আমি আপনার কাছে ইসলামের বায়’আয় গ্রহণ করতে চাই। তিনি (অন্যান্য বিষয়ের সাথে) আমার উপর শর্ত আরোপ করলেনঃ আর সকল মুসলমানের কল্যাণ কামনা করবে। তারপর আমি তাঁর কাছে এ শর্তের উপর বায়’আত গ্রহণ করলাম। এ মসজিদের রবের কসম! আমি তোমাদের কল্যাণকামী। এরপর তিনি আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করলেন এবং (মিম্বর থেকে) নেমে গেলেন।
হদিস নং - ০০০৫৮
হদিস নং - ০০০৫৯