হাদিস নং- ০০৮৯

আবুল ইয়ামান (র) ও এবনে ওহব (র) .......উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনি উমায়্যা এবনে যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাহটি ছিল মদীনার ঊঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দু’জনে পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) এর খিদমতে হাযির হাতম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনি অনুরূপ করতেন।

এরপর একদিন আমার আনসারী সঙ্গী তাঁর পালার দিন এলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে করাঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসা (রা)-এর কাছে গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না।’ এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) এর কাছে গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেনঃ ‘না।’ আমি তখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উঠলাম।

হাদিস নং- ০০৯০

আবূ মাস‘উদ আনসরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না। কারন অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করেন। [আবূ মাস‘উদ (রা) বলেন,] আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)কে কোন ওয়াযের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারন তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোক থাকে।

হাদিস নং- ০০৯১

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)কে হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ তার বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। এরপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। এরপর যদি এর মালিক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল, ‘হারানো উট পাওয়া গেলে?’ এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) এমন রেগে গেলেন যে, তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কি হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির কাছে যেতে পারে এবং গাছের লতা-পাতা খেতে পারে। তাই তাকে ছেড়ে দাও, যাতে মালিক তাকে পেয়ে যায়।’ সে বলল, ‘হারানো বকরী পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার, নয়ত তোমার ভাইয়ের, নয়ত বাঘের।’

হাদিস নং- ০০৯২

আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা যখন বেশি হয়ে গেল, তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদের বললেনঃ ‘তোমরা আমার কাছে যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফা।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ তোমার পিতা হল শায়বার মাওলা (আযাদকৃত গোলাম) সালিম।’ তখন হযরত ‘উমর (রা)- রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমরা মহান আল্লাহ্ তা’আলার কাছে তওবা করছি।’

হাদিস নং- ০০৯৩

আনাস এবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বের হলেন। তখন আবদুল্লাহ্ এবনে হুযাফা দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফা।’ এরপর তিনি বাবার বলতে লাগলেন, ‘তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর।’ ‘উমর (রা) তখন হাঁটু গেড়ে বসে বললেনঃ ‘আমরা আহল্লাহ্কে রব হিসাবে, ইসরামকে দীন হিসাবে এবং মুহাম্মদ (সা)কে নবী হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে নিয়েছি।’ তিনি এ কথা তিনবার বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) নীরব হলেন।

হাদিস নং- ০০৯৪

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) যখন সালাম করতেন, তনিবার সালাম করতেন। আর যখন কোন কথা বলতেন তা তিনবার বলতেন।

হাদিস নং- ০০৯৫

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) যখন কোন কথা বলতেন তখন তা তিনবার বলতেন যাতে তা বুঝে নেওয়া যায়। আর যখন কোন কওমের নিকট এসে সালাম করতেন, তাদের প্রতি তিনবার সালাম করতেন।

হাদিস নং- ০০৯৬

আবদুল্লাহ্ এবনে ‘আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের এক সফরে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) পেছনে রয়ে গেলেন। এরপর তিনি আমাদের নিকট এমন সময় পৌঁছলেন যখন আমাদের সালাতুল আসরের প্রস্তুতিতে দেরী হয়ে গিয়েছিল। আমরা ওযূ করতে গিয়ে আমাদের পা মোটামুটিভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) উচ্চস্বরে ঘোষণা দিলেনঃ ‘পায়ের গোড়ালী শুকনো থাকার জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।’ তিনি একথা দু’বার কিংবা তিনবার বললেন।

হাদিস নং- ০০৯৭

আবূ বুরদা (র), তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বলেছেনঃ তিন ধরনের লোকের জন্য দুটি সওয়াব রয়েছেঃ (১) আহলে কিতাব—যে ব্যক্তি তার নবীর ওপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) এর উপরও ঈমান এনেছে। (২) যে ক্রীতদাস আল্লাহ্‌র হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও (আদয় করে)। (৩) যার একটি বাঁদী ছিল, যার সাথে সে মিলিত হত। তারপর তাকে সে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালভাবে দীনী ইল্‌ম শিক্ষা দিয়েছে, এরপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। এরপর বর্ণনাকরী আমের (র) (তাঁর ছাত্রকে) বলেন, তোমাকে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই হাদীসটি শিক্ষা দিলাম, অথচ এর চাইতে ছোট হাদীসের জন্যও লোক (দূর-দূরান্ত থেকে) সওয়ার হয়ে মদীনায় আসত।

হাদিস নং- ০০৯৮

এবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) কে সাক্ষ্য রেখে বলছি, অথবা পরবর্তী বর্ণনাকারী ‘আতা (র) বলেন, আমি এবনে আব্বাসকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) (ঈদের দিন পুরুষের কাতার থেকে) বের হলেন আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিলাল (রা)। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) মনে করলেন যে, দূরে থাকার কারনে তাঁর ওয়ায মহিলাদের কাছে পৌঁছে নি। তাই তিনি (পুনরায়) তাঁদের নসীহত করলেন এবং দান-খয়রাত করার উপদেশ দিলেন। তখন মহিলারা কানের দুল ও হাতের আংটি দিয়ে দিতে লাগলেন। আর বিলাল (রা) সেগুলি তাঁর কাপড়ের আচঁলে নিতে লাগলেন। ইসমা‘ঈল (র) ‘আতা (র) সূত্রে বলেন যে, এবনে আব্বাস (রা) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)কে সাক্ষী রেখে বলছি।

হাদিস নং- ০০৯৯

আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)কে জিজ্ঞাসা করা হলঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! কিয়ামতের দিন আপনার সাফা‘আত লাভে কে সবচাইতে বেশি ভগ্যবান হবে? রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বললেন, আবূ হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম, এ বিষয়ে তোমার আগে আমাকে আর কেউ প্রশ্ন করবে না। কারন আমি দেখেছি হাদীসের প্রতি তোমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কিয়ামতের দিন আমার সাফ‘আত লাভে সবচাইতে ভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি যে খালিস দিলে লা ইলাহা ইল্লাহ্ (পূর্ণ কালেমা তাইয়েবা) বলে।

হাদিস নং- ০১০০

 

হাদিস নং- ০১০১

আমর ইবনুল ‘আস (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বান্দার অন্তর থেকে ইলম বের করে উঠিয়ে নেবেন না; বরং আলিমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। যখন কোন আলিম বাকী থাকবে না তখন লোকেরা জাহিলদেরই নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, তারা না জেনেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও গোমরাহ হবে, আর অপরকেও গোমরাহ করবে।

হাদিস নং- ০১০২

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মহিলারা একবার নবী করীম কে বলল, পুরূষেরা আপনার কাছে আমাদের চাইতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। তাই আপনি নিজে আমাদের জন্য একটি দিন ধার্য করে দিন। তিনি তাদের বিশেষ একটি দিনের ওয়াদা করলেন; সে দিন তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাদের ওয়ায-নসীহত করলেন ও নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের যা যা বলেছিলেন, তার মধ্যে একথাও ছিল যে, তোমাদের মধ্যে যে স্ত্রীলোক তিনটি সন্তান আগেই পাঠাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের পর্দাস্বরূপ হয়ে থাকবে। তখন এক স্ত্রীলোক বলল, আর দু’টি পাঠালে? তিনি বললেনঃ দু’টি পাঠালেও।

Make a Free Website with Yola.