হাদিস নং- ০০৫৭
একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) মজলিসে লোকদের সামনে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর কাছে একজন বেদু্ঈন এসে প্রশ্ন করলেন, ‘কিয়ামত কবে?’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাঁর আলোচনায় রত রইলেন। এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি য বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেন নি। আর কেউ কেউ বললেন বরং তিনি শুনতেই পান নি। রাসূলুল্লাহ্ (সা) আলোচনা শেষ করে বললেনঃ ‘কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথয়?’ সে বলল, ‘এই যে আমি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্!’ তিনি বললেনঃ ‘যখন আমানত নষ্ট করা হয় তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।’ সে বলল, ‘কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়?’ তিনি বললেনঃ ‘যখন কোন কাজের দায়িত্ব অনুপযুক্ত লোকের প্রতি ন্যস্ত হয়, তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।’
হাদিস নং- ০০৫৮
আবদুল্লাহ্ ইবনে ‘আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের পেছনে রয়ে গেলেন। পরে তিনি আমাদের কাছে পৌঁছলেন, এদিকে আমরা (আসরের) সালাত আদায় করতে দেরী করে ফেলেছিলাম এবং আমরা অযূ করছিলাম। আমরা আমাদের পা কোনমতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিচ্ছিলাম। তিনি উচ্ছস্বরে বললেনঃ পায়ের গোড়ালিগুলোর (শুষ্কতার) জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে। তিনি দু’বার বা তিনবার এ কথা বললেন।
হাদিস নং- ০০৫৯
রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার বললেনঃ গাছপালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে না। আর তা মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বল, ‘সেটি কি গাছ?’ রাবী বলেন, তখন লোকেরা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ-পালার নাম চিন্তা করতে লাগল। আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন, ‘আমার মনে হল, সেটা হবে খেজুর গাছ।’ কিন্তু আমি তা বলতে লজ্জাবোধ করছিলাম। তারপর সাহাবায়ে কিরাম (রা) বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি আমাদের বলে দিন সেটি কি গাছ? তিনি বললেনঃ তা হল খেজুর গাছ।’
হাদিস নং- ০০৬০
ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার বললেনঃ ‘গাছ-পালার মধ্যে এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে না। আর তা মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বল দেখি সিটি কি গাছ?’ রাবী বলেন, তখন লোকেরা জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ-পালার নাম চিন্তা করতে লাগল। ‘আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন, ‘আমার মনে হল, সেটা হবে খেজুর গাছ। কিন্তু তা বলতে আমি লজ্জাবোধ করছিলাম।’ তারপর সাহাবায়ে কিরাম (রা) বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনিই আমাদের বলে দিন সেটি কি গাছ?’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল খেজুর গাছ্’
হাদিস নং- ০০৬১
======================
হাদিস নং- ০০৬২
আনাস এবনে (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকল। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখল। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলল, ‘তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে?’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম, ‘এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।’ তারপর লোকটি তাঁকে লক্ষ্য করে বলল, ‘হে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র!’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেনঃ ‘আমি তোমার জওয়াব দিচ্ছি।’ লোকটি বলল, ‘আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং সে প্রশ্ন করার ব্যাপারে কঠোর হব, এতে আপনি রাগ করবেন না।’ তিনি বললেন, ‘তোমার যেমন ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আপনার রব ও আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে সকল মানুষের রাসূলরূপে পাঠিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে বছরের এ মাসে (রমযান) সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন?’ তিনি বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ।’ সে বলল, ‘আমি আপনাকে আল্লাহ্র কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ্ই কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমাদের ধনীদের থেকে সদকা (যাকাত) উসূল করে গরীবদের মধ্যে ভাগ করে দিতে?’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘আল্লাহ্ সাক্ষী, হাঁ।’ এরপর লোকটি বলল, ‘আমি ঈমান আনলাম আপনি যা (যে শরী‘আত) এনেছেন তার ওপর। আর আমি আমার কওমের রেখে আসা লোকজনের পক্ষে প্রতিনিধি, আমার নাম যিমাম এবনে সা’লাবা, বনী সা’দ এবনে বক্র গোত্রের একজন।’
হাদিস নং- ০০৬৩
=====================
হাদিস নং- ০০৬৪
আবদুল্লাহ্ এবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) এক ব্যক্তিকে তাঁর চিঠি দিয়ে পাঠালেন এবং তাকে বাহরায়নের গভর্নরের কাছে তা পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর বাহরায়নের গভর্নর তা কিস্রা (পারস্য সম্রাট)-এর কাছে দিলেন। পত্রটি পড়ার পর সে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলল। [বর্ণনাকারী এবনে শিহাব (র) বলেন] আমার ধারনা এবনে মুসায়্যাব (র) বলেছেন, (এ ঘটনার খবর পেয়ে) রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের জন্য বদদু’আ করেন যে, তাদেরকেও যেন সম্পূর্ণরূপে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।
হাদিস নং- ০০৬৫
আনাস এবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একখানি পত্র লিখলেন অথবা একখানি পত্র লিখতে মনস্থ করলেন। তখন তাঁকে বলা হল যে, তারা (রোমবাসী ও অনারবরা) সীলমোহরযুক্ত ছাড়া কোন পত্র পড়ে না। এরপর তিনি রূপার একটি আংটি (মোহর) তৈরী করালেন যার নকশা ছিল ------- আমি যেন তাঁর হাতে সে আংটির ঔজ্জ্বল্য (এখনও) দেখতে পাচ্ছি। [শু’বা (র) বলেন] আমি কাতাদ (র) কে বললাম, কে বলেছে যে, তার নকশা ----- ছিল? তিনি বললেন, ‘আনাস (রা)।
হাদিস নং- ০০৬৬
আবূ ওয়াকিদ আল-লায়সী (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার মসজিদে বসেছিলেন; তাঁর সঙ্গে আরও লোকজন ছিলেন। ইতিমধ্যে তিনজন লোক এলেন। তন্মধ্যে দু’জন রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর দিকে এগিয়ে এলেন এবং একজন চলে গেলেন। আবূ ওয়াকিদ (রা) বলেন, তাঁর দু’জন রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রেইলেন। এরপর তাঁদের একজন মজলিসের মধ্যে কিছুটা জায়গা দেখে সেখানে বসে পড়লেন এবং অন্যজন তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (সা) মজলিস শেস করে (সাহাবায়ে কিরামকে লক্ষ্য করে) বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এই তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু বলব? তাদের একজন আল্লাহর দিকে এগিয়ে এসেছে তাই আল্লাহ্ তাকে স্থান দিয়েছেন। অন্যজন (ভীড় ঠেলে অগ্রসর হতে অথবা ফিরে যেতে) লজ্জাবোধ করেছেন। আর অপরজন (মজলিসে হাজির হওয়া থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাই আল্লাহ্ও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।