হাদিস নং- ০০৮২
এবনে ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন (স্বপ্নে) আমার কাছে এক পিয়ালা দুধ আনা হল। আমি তা পান করলাম (তার পরিতৃপ্তি আমার সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ল।) এমনকি আমার মনে হতে লাগল যে, সে তৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হচ্ছে। এরপর যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, তা আমি ‘উমর ইব্নুল খাত্তাবকে দিলাম। সাহাবায়ে কিরাম জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি এ স্বপ্নের কী তা’বীর করেন? তিনি জওয়াবে বললেনঃ তা হল ‘ইল্ম।
হাদিস নং- ০০৮৩
‘আবদুল্লাহ্ এবনে ‘আমর এবনে ‘আস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বিদায় হজ্জের দিনে মিনায় মানুষের (প্রশ্নের উত্তর দানের) জন্য (বাহনের উপর) বসা ছিলেন। লোকে তাঁর কাছে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করছিল। এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, আমি ভুলবশত কুরবানী করার আগেই মাথা মুড়িয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবেহ কর, কোন ক্ষতি নেই। আর এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি ভুলবশত কঙ্কর নিক্ষপের আগেই কুরবাণী করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কঙ্কর ছুঁড়ো, কোন অসুবিধা নেই। ‘আবদুল্লাহ্ এবনে ‘আমর (র) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ (সা)কে সে দিন আগে বা পরে করা যে কাজ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, তিনি একথাই বলছিলেনঃ কর, কোন ক্ষতি নেই।
হাদিস নং- ০০৮৪
এবনে ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে (নানা বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করা হল। কোন একজন বললঃ আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই যবেহ করে ফেলেছি। এবনে ‘আব্বাস (রা) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা) হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ কোন অসুবিধা নেই। আর এক ব্যক্তি বললঃ আমি যবেহ করার পূর্বে মাথা মুড়িয়ে ফেলেছি। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেনঃ কোন অসুবিধা নেই (যেহেতু ভুলবশতঃ করা হয়েছে)।
হাদিস নং- ০০৮৫
================
হাদিস নং- ০০৮৬
আসমা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রা) এর কাছে এলাম, তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। আমি বললাম, ‘মানুষের কি হয়েছে?’ তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন (দেখ, সূর্য গ্রহণ লেগেছে)। তখন সকল লোক (সালাতে কুসূফ আদায়ের জন্য) দাঁড়িয়ে রয়েছে। আয়িশা (রা) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন? তিনি মাথা ইশারা করলেন, ‘হ্যাঁ’। এরপর আমি (সালাতে) দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি (সালাত এত দীর্ঘ ছিল যে,) আমার বেহুঁশ হয়ে পড়ার উপক্রম হল। তাই আমি মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। পরে (সালাত শেষে) রাসূলুল্লাহ্ (সা) আল্লাহ্র হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন। এরপর বললেনঃ যা কিছু আমাকে ইতিপূর্বে দেখানো হয়নি, তা আমি আমার এ স্থানেই দেখতে পেয়েছি। এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও দেখেছি। এরপর আল্লাহ্ তা’আলা আমার কাছে ওহী প্রেরণ করলেন, ‘তামাদেরকে কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ন্যায় (কঠিন) পরীক্ষা অথবা তার কাছাকাছি।’
ফাতিমা (রা) বলেন, আসমা (রা) ---- (অনুরূপ) শব্দ বলেছিলেন, না ----- (কাছাকাছি) শব্দ, তা ঠিক আমার মনে নেই। (কবরের মধ্যে) বলা হবে, ‘এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি জান?’ তখন মু’মিন ব্যক্তি বা মু’কিন (বিশ্বাসী) ব্যক্তি [ফাতিমা (রা) বলেন] আসমা (রা) এর কোন্ শব্দটি বলেছিলেন ঠিক আমার মনে নেই, বলবে ‘তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি আল্লাহর রসূল। আমাদের কাছে মু’জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম এবং তাঁর অনুসরণ করেছিলাম। তিনি মুহাম্মদ।’ তিনবার এরূপ বলবে। তখন তাকে বলা হবে, আরামে ঘুমাও, আমরা জানতে পারলাম যে, তুমি (দুনিয়ায়) তাঁর ওপর বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা মুরতাব (সন্দেহ পোষণকারী) ফাতিমা বলেন, আসমা কোন্টি বলেছিলেন, আমি ঠিক মনে করতে পারছি না- বলবে, আমি কিছুই জানি না। মানুষকে (তাঁর সম্পর্কে) কি যেন বলতে শুনেছি, তাই আমিও তাই বলেছি।"
হাদিস নং- ০০৮৭
আবূ জামরা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবনে আব্বাস (রা) ও লোকদের মধ্যে দোভাষীর কাজ করতাম। একদিন এবনে আব্বাস (রা) বললেন, আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে এলে, তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ প্রতিনিধি দল? অথবা বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? তারা বলল, ‘রাবী’আ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ‘মারহাবা। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর থেকে আপনার কাছে এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মাঝে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা শাহ্র-ই হারম- ছাড়া আপনার কাছে আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং তার ওসীলায় আমরা জান্নতে দাখিল হতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহ্র উপর ঈমান আনা কিরূপে হয় জান? তারা বললঃ ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহ্র রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং রমযান এর সিয়াম পালন করা আর তোমাদের গনীমাতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো লাউয়ের খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরার পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার করতে। শু’বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরী পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও (----- ) এর স্থলে (-----) বলেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের পৌঁছে দাও।
**মালিক ইব্নুল হুওয়াইরিস (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) আমাদের বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের কাওমের কাছে ফিরে যাও এবং তাদেরকে শিক্ষা দাও।"
হাদিস নং- ০০৮৮
উকবা ইব্নুল হারিস (রা) বর্ণনা করেন, তিনি আবূ ইহাব এবনে আযীয (র)-এর কন্যাকে বিবাহ করলে তাঁর কাছে একজন স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি উকবা (রা)-কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। উকবা (রা) তাকে বললেনঃ আমি জানি না যে, তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ। আর (ইতিপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাও নি। এরপর তিনি মদীনায় রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর কাছে গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ এ কথার পর তুমি কিভাবে তার সঙ্গে সংসার করবে? এরপর উকবা তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং সে মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল।