হাদিস নং- ০১৮৩
আবদুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (সা) এর স্ত্রী মায়মূনা (রা) এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইবন ‘আব্বাস (রা) এর খালা। ইবন ‘আব্বাস (রা) বলেনঃ এরপর আমি বিছানার চওড়া দিকে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শয়ন করলেন; এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) ঘুমিয়ে পরলেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে রাসূলুল্লাহ (সা) জেগে উঠলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরা আল-‘ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক থেকে উযূ করলেন। তিনি সুন্দরভাবে উযূ করলেন। তারপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।
ইবন ‘আব্বাস (রা) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছিলেন তদ্রুপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিলেন (এবং তাঁর), ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর দু রাক‘আত, তারপর দু রাক‘আত, দু রাক‘আত, তারপর দু রাক‘আত, তারপর দু রাক‘আত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর কাছে মুয়াযযিন এলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে হাল্কাভাবে দু রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
হাদিস নং- ০১৮৪
আসমা বিনত আবূ বকর (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (সা) এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রা) এর কাছে এলাম। তখন সুর্য গ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে এবং ‘আয়িশা (রা)- ও দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম লোকদের কী হয়েছে? তিনি তাঁর হাত দিয়ে আকাসের দিকে ইঙ্গিত কের বললেন, ‘সুবহান আল্লাহ্’! আমি বললাম এটা কি কোন আলামত? তিনি ইশারা করে বললেন, ‘হ্যাঁ’। এরপর আমিও সালাতে দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি আমাকে সংজ্ঞাহীনতায় আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (মুসল্লিদের দিকে) ফিরে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে বললেন, “যেসব জিনিস আমি ইতিপূর্বে দেখিনি সেসব আমি আমার এই স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও। আর আমার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তার কাছাকাছি।” বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রা) কোনটি বলেছিলেন, আমি জানি না। তোমাদের প্রত্যেকের কাছে (ফিরিশতা) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জ্ঞান আছে?” –তারপর ‘মু’মিন, বা ‘মু’কিন’ ব্যক্তি বলবে- আসমা ‘মুমিন’ বলেছিলেন না ‘মুকিন’ তা আমি জানি না- ইনি মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ। তিনি আমাদের কাছে মু‘জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তারপর তাকে বলা হবে নিশ্চিতে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ বলবে,- আমি জানি না। আসমা এর কোনটি বলেছিলেন তা আমি জানি না- লোকজনকে এঁর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।
হাদিস নং- ০১৮৫
ইয়াহিয়া আল-মাযিনী (র) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা)- কে (তিনি আমর ইবন ইয়াহিয়ার দাদা) জিজ্ঞাসা করলঃ আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা) উযূ করতেন? ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা) বলেনঃ ‘হ্যাঁ।’ তারপর তিনি পানি আনালেন। হাতের উপর সে পানি ঢেলে দু’বার তাঁর হাত ধুইলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে ঝেড়ে পরিস্কার করলেন। এরপর চেহারা তিনবার ধুইলেন। তারপর দু’ হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুইলেন। তারপর দু হাত দিয়ে মাথা মসেহ করলেন। অর্থ হাত দু’টি সামনে ও পিছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত গর্দান পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে নিয়েছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু’পা ধুইলেন।
হাদিস নং- ০১৮৬
আমর ইবন আবূ হাসান (র) থেকে বর্ণিতঃ তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রা)- কে রাসূলুল্লাহ (সা) –এর উযূ সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তখন তিনি এক পাত্র পানি আনালেন এবং তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী –এর মত উযূ করলেন।
তিনি পাত্র থেকে দু’হাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দুটি তিনবার ধুইলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তাঁর চেহারা মুবারক ধুইলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দুই হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার ধুইলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাথা মসেহ করলেন। তারপর দু’ পা গিরা পর্যন্ত ধুইলেন।
হাদিস নং- ০১৮৭
আবূ হো জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একবার দুপুরে রাসূলুল্লাহ (সা)আমাদের সামনে বেরিয়ে এলেন। তাঁকে উযূর পানি এনে দেওয়া হল। তখন তিনি উযূ করলেন। লোকে তাঁর উযূর তাঁর উযূর ব্যবহৃত পানি নিয়ে গায়ে মাখতে লাগল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) যোহরের দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। আর তাঁর সামনে ছিল একটি লাঠি।
আবূ মূসা (রা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) একটি পাত্র আনালেন যাতে পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে উভয় হাত ও চেহারা মুবারক ধুইলেন এবং তার মধ্যে কুলি করলেন। তারপর তাঁদের দু’জন [আবূ মুসা (রা) ও বিলাল (রা)] –কে বললেন, ‘তোমরা এ থেকে পান কর এবং তোমাদের মুখমণ্ডল ও বুকে ঢাল।’
হাদিস নং- ০১৮৮
মাহমুদ ইবনুর-রবী (রা) থেকে বর্ণত, বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি সে ব্যক্তি, যার মুখমণ্ডলে রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁদের কুয়া থেকে পানি নিয়ে কুলির পানি দিয়েছিলান। তিনি তখন বালক ছিলেন। ‘উরওয়া (র) মিসওয়া (র) প্রমুখের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। এ উভয় বর্ণনা একটি অন্যটির সত্যায়ন করে। নবী যখন উযূ করতেন তখন তাঁর ব্যবহৃত পানির উপর তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) যেন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।