হাদিস নং- ০১২৮

আসওয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইবনু যুবায়র (রা) আমাকে বললেন, ‘আয়িশা (রা) তোমাকে অনেক গোপন কথা বলতেন। বল তো কা‘বা সম্পর্কে তোমাকে কী বলেছেন? আমি বললাম, তিনি আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা)বলেছেনঃ ‘আয়িশা! তোমাদের কওম যদি (ইসলাম গ্রহণে) নতুন না হত, ইবন যুবায়র বলেনঃ কুফর থেকে; তবে আমি কা‘বা ভেঙ্গে ফেলে তার দুটি দরজা বানাতাম। এক দরজা দিয়ে লোক প্রবেশ করত আর এক দরজা দিয়ে বের হত। (পরবর্তীকালে মক্কার আধিপত্য পেলে) তিনি এরূপ করেছিলেন।

হাদিস নং- ০১২৯

হাদিস নং- ০১৩০

আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার মু‘আয (রা), রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) –এর পিছনে সাওয়ারীতে উপবিষ্ট ছিলান, তখন তিনি তাঁকে ডাকলেন, হে মু‘আয ইবন জাবাল! মু‘আয (রা) উত্তর দিলেন, ‘আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ এবং (আপনার আদেশ পালানের জন্য) প্রস্তুত। তিনি ডাকলেন, মু‘আয! মু‘আয (রা) উত্তর দিলেন, ‘আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ এবং প্রস্তুত।’ তিনি আবার ডাকলেন, মু‘আয। তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ এবং প্রস্তুত। এরূপ তিনবার করলেন। এরপর বললেনঃ যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল’... তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন। মু‘আয (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে?’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তারা এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে।’ মু‘আয (রা) (জীবনভর এ হাদিসটি বর্ণনা করেন নি) মৃত্যুর সময় এ হাদিসটি বর্ণনা করে গেছেন যাতে (ইলম গোপন রাখার) গুনাহ না হয়।

হাদিস নং- ০১৩১

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) মু‘আয (রা) কে বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোনরূপ শিরক না করে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করবে সে জান্নাতে দাখিল হবে। (এ কথা শুনে) মু‘আয (রা) বললেন, ‘আমি কি লোকদের সুসংবাদ দেব না?’ তিনি বললেন, ‘না, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা এর উপরই ভরসা করে বসে থাকবে।’

হাদিস নং- ০১৩২

উম্মে সালমা (রা) থেকে বর্ণত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর খিদমতে উম্মে সুলায়ম (রা) এসে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ হক কথা প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বললেনঃ ‘হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।’ তখন উম্মে সালমা (লজ্জায়) তাঁর মুখ ঢেকে নিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্ত্রীলোকের স্বপ্নদোষ হয় কি?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার ডান হাতে মাটি পড়ুক! (তা না হলে) তাঁর সন্তান তাঁর আকৃতি পায় কিরূপে?’

হাদিস নং- ০১৩৩

ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বলেনঃ গাছের মধ্যে এমন এক গাছ আছে যার পাতা ঝরে পড়ে না এবং তা হ’ল মুসলিমের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বল তো সেটা কোন গাছ? তখন লোকজনের খেয়াল জঙ্গলের গাছপালার প্রতি গেল। আর আমরা মনে হতে লাগল যে, তা হ’ল খেজুর গাছ। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, ‘কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করলাম।’ সাহাবায়ে কিরাম (রা) বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিই আমাদের তা বলে দিন।’ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বললেনঃ ‘তা হ’ল খেজুর গাছ।’ আবদুল্লাহ (রা) বলেন, ‘তারপর আমি আমার পিতাকে আমার মনে যা এসেছিল তা বললাম।’ তিনি বললেন ‘তুমি তখন তা বলে দিলে অমুক অমুক জিনিস লাভ করার চাইতে আমি বেশী খুশী হতাম।’

হাদিস নং- ০১৩৪

আলী ইবন আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার অধিক পরিমাণে ‘মযী (পুরুষদের খায়েস বেরে গেলে প্রথমে যে পানি বের হয়)’ বের হত। তাই এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) – কে জিজ্ঞাসা করার জন্য মিকদাদকে বললাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বললেনঃ ‘এতে কেবল ওযূ করতে হয়।

Make a Free Website with Yola.