হাদিস নং- ০১১২
হাদিস নং- ০১১৩
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের কালে খুযা‘আ গোত্র লায়স গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল। এ হত্যা ছিল তাদের এক নিহত ব্যক্তির প্রতিশোধ স্বরূপ, যাকে ইতিপূর্বে লায়স গোত্রের লোক হত্যা করেছিল। তারপর এ খবর নবী – এর কাছে পোঁছল। তিনি তাঁর উটের উপর আরোহণ করে খুতবা দিলেন, তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মক্কা থেকে ‘হত্যা’- কে (অথবা বর্ণনাকারী বললেন) ‘হাতী’- কে রোধ করেছেন।
ইমাম বুখারী (র) বলেন, রাসূলুল্লাহ ‘হত্যা’ বলেছেন না ‘হাতী’ বলেছেন এ ব্যাপারে বর্ণনাকারী আবূ নু‘আয়ম সন্দেহ পোষণ করেন। অন্যেরা শুধু ‘হাতী’ শব্দ উল্লেখ করেছেন। অবশ্য মক্কাবাসীদের উপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) এবং মু’মিনগনকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) বিজয়ী করা হয়েছে। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারো জন্য মক্কা (নগরীতে লড়াই করা) হালাল করা হয়নি এবং আমার পরও কারো জন্য হালাল হবে না। জেনে রাখ, তাও আমার জন্য দিনের কিছু সময় মাত্র হালাল করা হয়েছিল। আরো জেনে রাখ, আমার এই কথা বলার মুহূর্তে আবার তা হারাম হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা ও কোন গাছপালা কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকে কোন বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া যাবেনা। তবে ঘোষণা করার জন্য নিতে পারবে। আর যদি কেউ নিহত হয়, তবে তার আপনজনের জন্য দুটি ব্যবস্থার যে কোন একটির অধিকার রয়েছে। হয় তার ‘দিয়াত নিবে নয় ‘কিসাস’ গ্রহণ করবে।
এরপর ইয়ামানবাসী এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (এ কথাগুলো) আমাকে লিখে দিন। তিনি (সাহাবীদের) বললেনঃ তোমরা তাকে (আবূ শাহকে) লিখে দাও। তারপর একজন কুরায়শী [আব্বাস (রা)] বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! গাছপালা কাটার নিষেধাজ্ঞা হতে ইযখির বাদ রাখুন। কারণ তা আমরা আমাদের ঘরে ও কবরে ব্যবহার করি।’ রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ‘ইযখির ছাড়া, ইযখির ছাড়া।"
হাদিস নং- ০১১৪
আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সা) –এর সাহাবীগণের মধ্য ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর (রা) ব্যতীত আর কারো কাছে আমার চাইতে বেশী হাদীস নেই। কারণ তিনি লিখে রাখতেন, আর আমি লিখতাম না। মা‘মার (র) হাম্মাম (র) সূত্রে হুরায়রা (রা) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নং- ০১১৫
ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সা) –এর রোগ যখন বেড়ে গেল তখন তিনি বললেনঃ ‘আমার কাছে কাগজ কলম নিয়ে এস, আমি তোমাদের এমন কিছু লিখে দিব যাতে পরবর্তীতে তোমরা ভ্রান্ত না হও।’ ‘উমর (রা) বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ্ (সা) – এর রোগ যন্ত্রণা প্রবল হয়ে গেছে (এমতাবস্থায় কিছু বলতে বা লিখতে তাঁর কষ্ট হবে)। আর আমাদের কাছে তো আল্লাহর কিতাব রয়েছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ এতে সাহাবীগণের মধ্য মতবিরোধ দেখা দিল এবং শোরগোল বেড়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। আমার কাছে ঝগড়া-বিবাদ করা উচিত নয়।’ এ পর্যন্ত বর্ণনা করে ইবন আব্বাস (রা) (যেখানে বসে হাদীস বর্ণনা করছিলেন সেখান থেকে) এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে গেলেন যে, ‘হায় বিপদ, সাংঘাতিক বিপদ! রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর লেখনীর মধ্যে যা বাধ সেধেছে।’
হাদিস নং- ০১১৬
উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক রাতে নবী করীম ঘুম থেকে জেগে বলেনঃ সুবহানআল্লাহ! এ রাতে কতই না বিপদাপদ নেমে আসছে এবং কতই না ভান্ডার খুলে দেওয়া হচ্ছে! অন্য সব ঘরের মহিলাগণকেও জানিয়ে দাও, ‘বহু মহিলা যারা দুনিয়ায় বস্ত্র পরিহিতা, তারা আখিরাতে হবে বস্ত্রহীনা।