হাদিস নং- ০০৩৮

রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দীন তার উপর বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং (মধ্যপন্থার) নিকটবর্তী থাক, আশান্বিত থাক এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) সাহায্য চাও।

হাদিস নং- ০০৩৯

বারা (ইব্ন ‘আযিব) (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় হিজরত করে সর্বপ্রথম আনসারদের মধ্যে তাঁর নানাদের গোত্র [আবূ ইসহাক (র) বলেন] বা মামাদের গোত্রে এসে ওঠেন। তিনি ষোল-সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দসের দিকে সালাত আদায় করেন। কিন্তু তাঁর পছন্দ ছিল যে, তাঁর কিবলা বায়তুল্লাহ্‌র দিকে হোক। আর তিনি (বায়তুল্লাহ্‌র দিকে) প্রথম যে সালাত আদায় করেন, তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সঙ্গে একদল লোক উক্ত সালাত আদায় করেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা সালাত আদায় করেছিলেন তাঁদের একজন লোক বের হয়ে এক মসজিদে মুসল্লীদের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা তখন রুকু’র অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ “আমি আল্লাহ্কে সাক্ষী রেখে বলছি যে, এইমাত্র আমি রাসূলুল্লাহ্ (সা) এর সঙ্গে মক্কার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে এসেছি। তখন তাঁরা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থায়ই বায়তুল্লাহ্‌র দিকে ঘুরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করতেন তখন ইয়াহূদীদের ও আহলি কিতাবদের কাছে এটা খুব ভাল লাগত; কিন্তু তিনি যখন বায়তুল্লাহ্‌র দিকে (সালাতের জন্য) তাঁর মুখ ফিরালেন তখন তারা এর প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হল। যুহায়র (র) বলেন, আবূ ইসহাক (র) বারা (রা) থেকে আমার কাছে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে বেশ কিছু লোক ইন্তিকাল করেছিলেন এবং শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে আমরা কি বলব, বুঝতে পারছিলাম না, তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করেনঃ “আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের সালাতকে (যা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে আদায় করা হয়েছিল) বিনষ্ট করবেন না।”"

হাদিস নং- ০০৪০

রাসূলুল্লাহ্ (সা) কে বলেন,- বান্দা যখন ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইসলাম উত্তম হয়, আল্লাহ্ তা’আলা তার আগের সব গুনাহ্ মাফ করে দেন। এরপর শুরু হয় প্রতিদান; একটি সৎ কাজের বিনিময়ে দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত; আর একটি মন্দ কাজের বিনিময়ে ঠিক ততটুকু মন্দ প্রতিফল। অবশ্য আল্লাহ্ যদি মাফ করে দেন তবে ভিন্ন কথা। ইসহাক ইব্ন মানসূর (র) ........... আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর কায়েম থাকে তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত (সওয়াব) লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই মন্দ লেখা হয়।

হাদিস নং- ০০৪১

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) একবার তাঁর কাছে আসেন, তাঁর নিকট এক মহিলা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) জিজ্ঞাসা করলেনঃ ‘ইনি কে? আয়িশা (রা) উত্তর দিলেন অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাঁর সালাতের উল্লেখ করলেন। রাসূলুল্লাহ্ (সা) বললেনঃ ‘থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিৎ। আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহ্ তা’আলা ততক্ষন পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষন না তোমরা নিজেরা ক্লান্ত হয়ে পর। আল্লাহ্‌র কাছে সবচাইতে পছন্দনীয় আমল তা-ই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে।

হাদিস নং- ০০৪২

আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা) ইরশাদ করেন যে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাহ্ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমানও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ্ মুখারী (র) বলেন, আবান (রা) ....... কাতাদা (র) ....... আনাস (রা) রাসূলুল্লাহ্ (সা) থেকে নেকী --- এর স্থলে ‘ঈমান’ শব্দটি রিওয়ায়ত করেছেন।

Make a Free Website with Yola.